বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

২ এপ্রিল যেসব ক্লাস সংসদ টিভিতে

২ এপ্রিল যেসব ক্লাস সংসদ টিভিতে। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সব স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৯ মার্চ সকাল থেকে সংসদ টিভিতে 'আমার ঘরে আমার ক্লাস’ শিরোনামে  মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সম্প্রচার শুরু হয়েছে।


করোনার বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টিভিতে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। সহযোগিতা করছে এটুআই, ব্যানবেইসসহ অন্যান্যরা।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টিভিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। দীর্ঘ ছুটিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার মধ্যে রাখার সরকারি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, সংসদ টিভিতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ক্লাস সম্প্রচার করা হবে। সকাল ৯ টা থেকে ৯ টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ৯ টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্লাস প্রচার করা হবে।

সকাল ৯ টা ৫০ মিনিট থেকে ১০ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সপ্তম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ১০ টা ১০ মিনিট থেকে ১০ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাস প্রচার করা হবে।

সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিট থেকে ১০ টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির গণিত এবং ১০ টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাস প্রচার করা হবে।

বেলা ১১ টা ২০ মিনিট থেকে ১১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ১১ টা ৪০ মিনিট থেকে ১২ টা পর্যন্ত নবম শ্রেণির ইংরেজি ক্লাস প্রচার করা হবে।

শিক্ষার্থীরা সংসদ টিভিতে এসব ক্লাস দেখতে পারবেন। এছাড়া দৈনিক শিক্ষা ডটকমের অরিজিনাল ফেসবুক পেজ এবং দৈনিক শিক্ষা ডটকমের অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপে সরাসরি ক্লাস সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটুআইয়ের ফেসবুক পেজে ক্লাস সম্প্রচার করা হবে।
 
পাঠকের জন্য সংসদ টিভিতে ক্লাস প্রচারের রুটিনটি তুলে ধরা হলো।

 
টেলিভিশনে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত বিষয়ভিত্তিক ক্লাস দেখলেই কাজ শেষ নয়। টিভিতে প্রচারিত প্রতিটি ক্লাসের পর দেয়া হবে বাড়ির কাজ। আর প্রতিটি বিষয়ের আলাদা খাতায় সেই বাড়ির কাজ শেষ করতে হবে। করোনার তাণ্ডব শেষ হলে যখন স্কুল খোলা হবে তখন শিক্ষকদের সেই বাড়ির কাজের খাতা দেখাতে হবে। বাড়ির কাজের প্রাপ্ত নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে।

যতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ততদিনই টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বাসায় অবস্থান করেই ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদ টেলিভিশনে রেকর্ড করা শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
 
উৎস: দৈনিকশিক্ষা।

৫ এপ্রিল সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস শুরু

৫ এপ্রিল সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস শুরু । আগামী ৫ এপ্রিল টেলিভিশনে শুরু হবে প্রাথমিক স্তরের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান। সংসদ বাংলাদেশ টিভির মাধ্যমে ওইদিন রেকর্ডিং ক্লাস সম্প্রচার করা হবে। তবে পরবর্তী সময়ে বিটিভিতেও এসব ক্লাস সম্প্রচারের চিন্তা সরকারের আছে বলে সাংবাদিকদের জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের ডিজিটাল পাঠদানের জন্যও কনটেন্ট প্রস্তুত করছি। টিভিতে এই পাঠদান কার্যক্রম স্থায়ী করার চিন্তা করছি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প কাজ করছে।

জানা গেছে, প্রাথমিকের শিশুদের জন্য পাঠদানের লেকচার রাজধানীতে দুটি স্টুডিওতে রেকর্ডিং করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই রেকর্ডিং কার্যক্রম শুরু হবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যানবেইস, বিয়ামসহ রাজধানীতে অনেক সরকারি স্টুডিও খালি পড়ে থাকলেও বেসরকারি স্টুডিওতে এই ক্লাস রেকর্ডিং করার উদ্যোগের সমালোচনা হয়েছে।


এ ব্যাপারে সচিব বলেন, আর কোনো স্টুডিও পাওয়া যায়নি বলে আমরা ওই স্টুডিও বাছাই করেছি।

এদিকে অভিভাবকরা জানান, বিশ্বের ১৮৫ দেশে জাতীয়ভাবেই বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৫৪ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। তবে প্রায় সব দেশই অনলাইনে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রেখেছে। গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশে টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার করা হলেও বিশ্বের অন্য দেশে গুগল ক্লাসরুম, জুম, হ্যাংআউট, স্কাইপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পেজ বা গ্রুপে সব সময়ের জন্য চলে লেখাপড়া।

দৈনিক শিক্ষার পাঠকেরা বলেছেন, বাংলাদেশে যেভাবে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে তাতে শিক্ষকের সঙ্গে কথাবার্তা আদান-প্রদান সম্ভব নয়। শিক্ষক যা বোঝালেন তা না বুঝলেও কিছু করার নেই। কিন্তু গুগল ক্লাসরুম, জুমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষককে প্রশ্ন করার সুযোগ আছে। এরপর শিক্ষক বিষয়টি বুঝিয়েও দিতে পারেন। গত কয়েকবছরে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ল্যাপটপ প্রজেক্টরসহ সব সুবিধা রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করলেই লাইভ ক্লাস প্রচার করা সম্ভব।


উৎস: দৈনিকশিক্ষা।